জানা গেছে, একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
কলকাতায় একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা অনিক দত্ত মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শহরের হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় ঘটা এই ঘটনাটি বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত ও অবনতিশীল অবস্থায় তাকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।
চারতলা ভবনটির বাইরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথা, কোমর, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গড়িয়াহাট থানার পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং কলকাতা পুলিশের হত্যা বিভাগও মামলাটি দেখছে।
জানা গেছে, যে অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের ছাদে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পরিচালক দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং উদ্বেগের জন্য ওষুধও সেবন করছিলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটার আগে অনিক দত্ত হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর বিচ্ছিন্ন স্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলেন।
ভবনটির ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার আগের সময়টাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও অস্পষ্ট।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করছে, যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
দত্তের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং জানা গেছে, তাঁর শেষকৃত্য ২০২৬ সালের ২৮শে মে অনুষ্ঠিত হবে।
চলচ্চিত্র নির্মাতার ব্যক্তিগত জীবন তাঁর মৃত্যুর আগের বছরগুলোতে এক অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
প্রায় ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর অনিক দত্ত ও তাঁর স্ত্রী সন্ধি দত্ত আলাদা হয়ে গেছেন এবং তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গেছে।
তিনি গড়িয়াহাটের নিজের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন, আর তাঁর স্ত্রী হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় নিজের আলাদা বাসায় থাকতেন।
২০২৫ সালে দাম্পত্য সমস্যার খবর সামনে এসেছিল, যদিও দত্ত বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মুখ না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
জানা গেছে, গুরুতর হৃদযন্ত্রজনিত জটিলতার কারণে কয়েক মাস আগেও ওই চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ব্যক্তিগত সংগ্রামের ঊর্ধ্বে, অনিক দত্ত তাঁর কর্মজীবন জুড়ে বাংলা চলচ্চিত্রে একজন উল্লেখযোগ্য খ্যাতিমান ও দীর্ঘস্থায়ী তাৎপর্যপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন।
এই ক্ষতি বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং শিল্প জগতের সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের শোক ও অবিশ্বাস প্রকাশ করছেন।








